রকাহোলিক

কার্ট কোবেইন, রোলিং স্টোন ইন্টারভিউঃ সাফল্য জিনিসটা খারাপ না। তারকাখ্যাতি, পিতৃত্ব, পার্ল জ্যামের সাথে গ্যাঞ্জাম, গ্রুঞ্জের মৃত্যু, সারাজীবনে কখনও সুখী না হইতে না পারা নিয়া আমাদের বিধ্বংসী আলাপ (পর্ব ১)

Kurt Cobain: What to Read and Watch, 25 Years After the Nirvana Leader's  Death - The New York Times

১৯৯৪ সালের ৫ এপ্রিল মাত্র ২৭ বছর বয়সে কার্ট কোবেইন মৃত্যুবরণ করেন। (ছবিঃ ফ্রান্স শেলেকেনস)। 

ব্যাকস্টেজের সিঁড়ির গোড়ার কাছে মাথাভর্তি আউলাঝাউলা চুলের কার্ট কোবেইন খালি গায়ে এসে দাঁড়াইলেন। শিকাগোর অ্যারাগন বলরুমে নির্ভানার শো চলতেছে। তো উনি আমারে সিঁড়ির গোড়ায় রিসিভ করতে না করতেই নগদে চা’র দাওয়াত দিয়ে নির্ভানার ড্রেসিংরুমের দিকে নিয়ে যেতে যেতে গলাটা একেবারে খাদে নামায়ে বললেন, “ট্যুরের সবচাইতে ফালতু শোটা অন্তত দেখতে আসতে পারলেন বলে আপনের জন্যে ভাল লাগতেছে।“

ঠিকই বলছেন উনি, আজ রাতের কনসার্টটা অ্যারাগনে নির্ভানার দুইটা কনসার্টের শেষটা। শেষ দুই বছরে তাদের এইটাই তাদের প্রথম ইউএস ট্যুর, সপ্তাহখানেক হইছে মাত্র। অথচ এর মধ্যেই সব পচে গন্ধ উঠতেছে যেন। এই ভেন্যুর ফাঁকা সাউন্ড ব্রিড  আর  টেরিটোরিয়াল পিসিং এর জ্বলন্ত টর্পেডোবৎ রিফগুলারেও পুডিং বানায় দিছে। এগুলার সাথে নিজের ভোকাল, গিটার আর মনিটর নিয়া ঝামেলা তো আছেই। তবে আশার কথা হইলো এতো ঝামেলার মধ্যেও কিছু মাথানষ্ট মোমেন্টও আছে। যেমন ধরেন কোবেইনের স্যান্ডপেপারের মতো খসখসা গলার হাউল অ্যারাগনের এই প্রতিধ্বনিময় ক্যানিয়নবৎ হলের আবহটারে ফালাফালা করে দিচ্ছে প্রায়ই তা সে হার্ট  শেপড বক্স এর কোরাসই হোক বা ছোট্ট, লাজওয়াব স্লিভার  এর সময় ট্যুরে গেস্ট গিটারিস্ট হিসাবে আসা প্যাট স্মিয়ার (এক্স জার্ম ব্যান্ড) এর উরাধুরা পাওয়ার স্ট্রামিংই হোক। কিন্তু মজার ব্যাপার হইল স্মেলস লাইক টিন স্পিরিট এর কোন দেখা নাই। ফলে হাউজের বাত্তি জলতেই হল জুড়ে ভুয়া ভুয়া রব উঠে গেল। মিথ হলেও শোনা যায় পরে নাকি এই ব্যাপারটা নিয়া কোবেইন বলছিলেন -‘ফালতু যত্তোসব ঘ্যানঘ্যানানি মার্কা শিজোফ্রেনিক টাইপের লোকজন আইসা জুটছিল ওইদিন।’ আসলে ঠিকই বলছিলেন কোবেইন, সত্যি বলতে ওই শো এর সাউন্ডম্যানরে পত্রপাঠ বিদায় করলেই ভাল হত।  শো’টা ক্যান্সেল করতে পারলে তো আরও ভাল হইতো। তারপর আমাদের সাথে এই ইন্টারভিউটাও বাতিল কইরা সোজা হোটেলে গিয়া চিল করতে পারলে তো সোনায় সোহাগা! কিন্তু এসব কিছুই না করে উনি শো এর মাঝখানে বিশ্রামের সময়টায় আমারে নিয়া ব্যাকস্টেজে চইলা আসলেন। তারপর সারা ঘর জুইড়া দৌড়ায়ে বেড়ানো নিজের এক বছরের ফুটফুটে ব্লন্ড কন্যা ফ্রান্সেস বিন কোবেইন এর সাথে খেলতে আরম্ভ করে দিলেন। ঘরে যার সাথেই তার দেখা হচ্ছে তারেই একটা স্বর্গীয় হাসি দিচ্ছে সে। পরে হোটেলে ফিরে স্রেফ এক প্যাকেট সিগারেট আর এভিয়ান মিনারেল ওয়াটারের দুইটা বোতল নিয়া লম্বা আলাপসালাপের মুডেই আমাদের সাথে বসলেন কোবেইন। যতোটা বলা হয় সাফল্য যে ততোটা খারাপ জিনিস না এবং জীবনটা যে ইদানিং বেশ ভালই কাটতেছে আর দিনে দিনে ভাল’র দিকেই যাচ্ছে এইসব  বিষয়ে বাতচিত করার খায়েশ নিয়াই বসলেন তিনি আমাদের সাথে।

“আসলে পুরা বিষয়টাই খুব দ্রুত ঘটছিল। তাছাড়া গ্যাঞ্জামও ছিল অনেক,” ঘুমঘুম নিস্তেজ গলায় নেভারমাইন্ড এর ব্যালিস্টিক সাফল্যপরবর্তী সময় মনে পয়দা হওয়া আত্মবিশ্বাসের ক্রাইসিসের ব্যাপারে বলতেছিলেন কোবেইন। “আসলে ওইরকম একটা সাফল্যের সাথে কেমনে ডিল করতে হয় তা আমার জানা ছিল না। রকস্টার ১০১ টাইপের কোন কোর্সটোর্স থাকলে মনে হয় ভাল হইতো, করতাম আমি, তাইলে হয়ত একটু উপকার হতো।“ “এখনও কিছু ম্যাগাজিনে প্রায়ই রকস্টারদের নিয়ে নানানরকম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ চোখে পড়ে যেমন ধরেন কেউ লিখছে- স্টিং, পরিবেশবাদী শিল্পী আবার দেখা যায় লিখছে কার্ট কোবেইন মাথা খারাপ, খালি ঘ্যানর ঘ্যানর করা ফালতু একটা লোক, সবকিছুতেই খালি অভিযোগ। কি তারকাখ্যাতি কি জীবন কোনকিছুই তার ভাল্লাগে না। কিন্তু সবচে বড় কথা হল এতোকিছুর মধ্যেও এখনকার মতো সুখী জীবনে কখনও ছিলাম না আমি, বিশেষ করে গত এক সপ্তাহ, কারণ শোগুলা খুব ভাল হচ্ছে, অবশ্যই আজকেরটা বাদ দিয়ে। অন্যরা যা ভাবে মানুষ হিসাবে তার চাইতে অনেক অনেক বেশি সুখী আমি এখন।”

এই অবস্থায় আসতে গত কয়েকটা বছর অনেক কাঠখড় পোড়াইতে হইছে কোবেইনের। নেভারমাইন্ড এর পর বহুল প্রতীক্ষিত স্টুডিও অ্যালবাম ইন ইউটেরো বের করতে কম ঝামেলা  হয় নাই। শেষ মুহূর্তে অ্যালবামের নাম পাল্টানো, কয়েকটা ট্র‍্যাক এদিকসেদিক করা, অ্যালবামের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়া ব্যান্ডের সাথে রেকর্ড লেবেল ডিজিসি আর প্রোডিউসার স্টিভ অ্যালবিনির গ্যাঞ্জাম এর সাথে ১৯৯২ এর ফেব্রুয়ারিতে হোল ব্যান্ডের পাংক নুআ শিল্পী কোর্টনি লাভ কে  কোবেইনের বিয়া করা নিয়া খবরের কাগজে ঝড় তোলা সুস্বাদু সব রক গসিপ তো ছিলই তার মধ্যে আবার ওই বছর জুনেই যখন পারিবারিক কলহের জেরে বউ লাভরে নির্যাতনের অভিযোগে যখন গ্রেফতার হইলেন কোবেইন তখন তো পরিস্থিতি পুরাই আউলায়া গেল। কোবেইনের বাড়ি তল্লাশী কইরা পাওয়া গেল তিন তিনটা আগ্নেয়াস্ত্র। যাই হোক শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোন শাস্তি হয় নাই তার, কেসটাও পরে ডিসমিস হয়ে যায়।

গতবছর তারে নিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা হেরোইন সংক্রান্ত কানাঘুষা নিয়া মুখ খোলেন কোবেইন। কোবেইন বলছিলেন যে পেটের অসহ্য যন্ত্রণা কিছুটা কমাইতে মাঝেমধ্যে হেরোইন নিতেন তিনি। একটা ইন্টারভিউয়ে বলছিলেন, “জিনিসটা আমি ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করতাম।“ যাই হোক এখন অবশ্য ওইসব ছাঁইপাশ নেয়া ছাড়ছেন কোবেইন। নতুন ওষুধ আর স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া অভ্যাস করার ফলে তার পরিপাকতন্ত্র এখন অনেকটাই ভালর দিকে।

কিন্তু তার ভেতরের যে দ্রোহ সে ব্যক্তি জীবনেই হোক বা সামাজিক জীবনে সেইটার গোড়া খুঁজতে গেলে আমাদের আরও ভেতরে ঢোকা লাগবে। অ্যাবারডিনের চুপচাপ বিচ্ছিন্ন একটা শহর ওয়াশ এ জন্ম কোবেইনের। কোবেইন থেকে শুরু করে ব্যান্ডের বেইজিস্ট ক্রিস্ট নোভোসেলিক, ড্রামার ডেভ গ্রোলসহ নির্ভানার অধিকাংশ ভক্তই ব্রোকেন ফ্যামিলি থেকে আসা। অটো মেকানিক বাবা আর সেক্রেটারি মায়ের সন্তান কোবেইনের ৮বছর বয়সেই তার বাবা-মা’র ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই কমার্শিয়াল আর্টিস্ট হওয়ার একটা ইচ্ছা ছিল কোবেইনের। হাইস্কুলে থাকতে আর্ট কম্পিটিশনও জিতছেন অনেক। নির্ভানা’র অধিকাংশ আর্টওয়ার্কগুলাও এখন কোবেইনই করেন। ইন ইউটেরো  রেকর্ডের ব্যাক কাভারের প্লাস্টিক ফিটাস (ভ্রূণ) এর কোলাজটাও তারই করা, যার কারণে ওয়াল মার্ট  তাদের অ্যালবাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। গ্র‍্যাজুয়েশন শেষে স্কলারশিপ পরীক্ষায় পাশ করে একটা আর্ট স্কুলে ঢোকেন তিনি, শুরু হয়  উরাধুরা টিনেজ লাইফ। লোকাল পাংক ব্যান্ড দ্যা মেলভিন  এর রোডি হিসাবেও কাজ করছেন ওইসময়। গানটান লেখার শুরুও ওইসময়ই। এখন অবশ্য  বলেন যে জীবনে কখনও গায়ক হইতে চান নাই তিনি। সারাটা জীবন চাইছেন রিদম গিটারিস্ট হবেন, এক কোণায় খাড়াইয়া চুপচাপ বাজায়ে যাবেন ব্যাস। “কিন্তু হাই স্কুলের ওইসময়টায় নিজের বেডরুমে যখন একা একা গিটার নিয়া টুংটাং করতাম তখন মাঝেমধ্যেই মনে হইতো যে আমার গান লেখা উচিৎ,” বলতেছিলেন কোবেইন।

New documentary shows Kurt Cobain as he was

জুনিয়র সাব পপ লেবেলের সাইনিং থেকে গ্রাঞ্জ সুপারগডে পরিণত হওয়া- সেরা ব্যান্ড, সেরা অ্যালবামের পুরস্কার পাওয়া এতোকিছুর পরেও অনেকদিন নিজের প্রতিভা নিয়া একটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে কাটাইছেন, এইটা কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ তা ঠিক বুঝে আসতো না তার। তবে শেষ পর্যন্ত তার মনে হইছে যে বিষয়টা সম্ভবত দুইটা জিনিসের একটা মিশেল। মানুষ যে তারে একজন সংরাইটারের চাইতে আইকন হিসাবে বেশি মানে এই জিনিসটা তারে খুব প্যারা দেয়। তার ভয় যে ইন ইউটেরো ই হয়তো নির্ভানা ’র সাউন্ডের বটমলাইন। মিউজিক বিজনেসে একদমই ভরসা নাই কোবেইনের। নির্ভানার পাংক ওয়ানাবি ভক্তদের প্রতি নিজের মনোভাবটাও বদলাইছেন পুরাপুরি।

“আগের মতো তাদের নিয়া অতো বাছবিচার করি না এখন,” অনেকটা যেন ক্ষমা চাওয়ার সুরেই বললেন কোবেইন কথাটা। “আজকে তাদের এবং আমাদের যে অবস্থান সেইটা নিয়ে নিজের সাথে একটা বোঝাপড়ায় আসতে পারছি আমি। এইটা আর প্যারা দেয় না তেমন। মনে করেন নিয়েন্ডারথাল টাইপের গোঁফওয়ালা কেউ মালটাল খেয়ে ইচ্ছামতো স্লিভার  গাইতেছে এইরকম দেখলে চরম লাগে এখন।“

“গত দেড় বছরে মানসিক চাপ অনেক কমাইছি আমি,” গলায় একটা চরম প্রশান্তির সুর কোবেইনের। “বিষয়টা আমারে খুবই অবাক করে।“ তারপর একেএকে নিজের অর্জনগুলা বলা শুরু করলেন তিনি- “এই অ্যালবামটা বাইর করলাম, আমার বয়, বাচ্চা, উইলিয়াম বারো’র সাথে দেখা করা, তার সাথে একটা রেকর্ড বের করা।“

“এই ছোট ছোট বিষয়গুলা কেউ খেয়াল করে না বা করলেও গোণায় ধরে না। আর এইসব কিছু সম্ভব হইছে আমার ব্যান্ডটার কারণে। এই ব্যান্ড না থাকলে এসব কিছুই হত না। তাই আমার ব্যান্ডকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। এখন প্রতিটা মাসেই ইতিবাচক একটা না একটা কিছু হচ্ছেই।“

“শুধু একটাই আশা যে বেশি আরামের চোটে আবার বোরিং না হয়ে যাই। আশা করি আগের মতোই আরও উদ্ভট কিছু করার মতো যথেষ্ট তারছেঁড়া থাকতে পারবো।“

 

আজ রাতের শো’তে স্টেজে সবই ভুলভাল হল মানলাম কিন্তু আপনি স্মেলস লাইক টিন স্পিরিট  না করেই নেমে আসলেন ক্যান?

ওইটাই বাকি ছিল! কাষ্ঠল একটা হাসি দিয়া বললেন কোবেইন। ওইটা করলে খারাপের ষোলকলা পূর্ণ হইতো আরকি। টিন স্পিরিটের  গিটার সোলোটা তো মনেও নাই আমার। কেটারিং রুমে গিয়ে ওইটা মনে করতে করতেই পাঁচ মিনিট লেগে যাইতো। কিন্তু এগুলা আমার একদমই পছন্দ না। জানি না ব্যাপারটা আলসেমি কিনা মানে আমার এই কোনকিছুর তোয়াক্কা না করার ব্যাপারটা আরকি। তবে যাই হোক একটু বিব্রত লাগলেও এখনও টিন স্পিরিট  বাজাইতে ভালই লাগে আমার।

 

ঠিক কী কারণে? গানটার কপালে জোটা বিরাট সাফল্য কি আপনারে প্যারা দেয়?

হতে পারে। গানটার উপর সবার ঝোঁক অনেক বেশি। এর কারণ হইল পাবলিক এমটিভি তে কয়েক লক্ষবার গানটা দেখছে। তাদের মগজে ঢুকায় দেয়া হইছে গানটা। অথচ এইটার চাইতে ভাল না হোক অন্তত এর সমান ভাল অনেক গানই লিখছি আমি যেমন ধরেন ড্রেইন ইউ কোন সন্দেহ এইটা টিন স্পিরিট‘র সমান ভাল একটা গান। এই গানটার কথাগুলাও খুব পছন্দ আমার ফলে যতোবারই করি না ক্যান কখনও বোরিং লাগে না। টিন স্পিরিট‘র মতো বিখ্যাত হয়ে গেলে হয়তো এইটা করতেও আবার ভাল লাগতো না। এইরকম আরকি। তবে যাই হোক, শো যদি আজকের শো’র মতো বাজে হয় তাইলে টিন স্পিরিট  করার কোন প্রশ্নই আসে না। আমার তো মনে হচ্ছিল গিটারটা জাস্ট ফেলে দিয়ে চলে যাই। খুব মজা পাচ্ছি এইরকম ভং ধইরা এই গান বাজানের কোন ইচ্ছা আমার নাই।

Nirvana: Smells Like Teen Spirit (Music Video 1991) - IMDb

কিন্তু গানটা লেখার সময় নিশ্চয়ই ভাল লাগছিল আপনার

তিন মাস যাবৎ আমরা প্র‍্যাকটিস চালাইছিলাম। ডিজিসি’র সাথে সাইনিংয়ের অপেক্ষায় ছিলাম তখন, ওই সময় আমি আর ডেভ (গ্রোল) থাকতাম অলিম্পিয়ায় (ওয়াশ) আর ক্রিস্ট (নোভোসেলিক) থাকতো টাকোমায় (ওয়াশ)। তো আমরা দুইজন প্রতি রাতে গাড়ি চালায়ে টাকোমা যাইতাম প্র‍্যাকটিস করতে, গানটান লিখতে। আমি চেষ্টা করতেছিলাম একটা আল্টিমেট পপ গানের লিরিক লেখার। সত্যি বলতে পিক্সিস  দের একহাত দেখে নিতে চাচ্ছিলাম আরকি (হাসি)। ওদের যখন প্রথম শুনি তখন ওদের মিউজিকের সাথে এতোটাই কানেক্টেড হয়ে পড়ছিলাম যে মনে হইতো আরে আমার তো এই ব্যান্ডে থাকার কথা ছিল কিংবা কম করে হলেও এদের কাভার করে এইরকম কোন ব্যান্ডে তো বটেই। আমরা তাদের সেন্স অব ডিনামিকসটা কাজে লাগাইছি। একটু নরম চুপচাপ আবার পরক্ষণেই হার্ড, উরাধুরা।

টিন স্পিরিট  নিতান্তই ক্লিশে একটা রিফের উপর করা। এই ধরেন বোস্টন  কিংবা লুই লুই‘র খুব কাছাকাছি রিফ এইটার। গিটার পার্টটা যেদিন নিয়া যাই সেদিন ক্রিস্ট আমারে বললো, “উদ্ভট।“ কিন্তু আমি পুরা ব্যান্ডরে দিয়া জিনিসটা পাক্কা দেড় ঘন্টা বাজায়ে নিছিলাম।

 

হিয়ার উই আর নাউ, এন্টারটেইন আস এই লাইনটা ক্যামনে লিখলেন?

যেকোন পার্টিতে গেলেই মদের আসরে এই কথাটা বলতাম আমি। মনে করেন অনেক সময়ই এইরকম হয় না যে পার্টিতে আপনি হয়তো অনেকের সাথে  আছেন আর খুবই বিরক্তি আর অস্বস্তিতে ভুগতেছেন! তো ওইরকম পরিস্থিতিতে এই হিয়ার উই আর, এন্টারটেইন আসইউ ইনভাইটেড আস হিয়ার  কথাটা প্রায়ই বলতাম আমি।

 

ভাবতে কেমন লাগে, যে গানটা আপনি নিজের প্রিয় একটা ব্যান্ডের কথা মাথায় রেখে বেশ মজা নিয়া লিখছিলেন সেইটাই পরে গিয়া গ্রাঞ্জ এর জাতীয় সংগীতে পরিণত হইলো? আর এইটা তো বলাই বাহুল্য যে ইয়ুথ মার্কেটিংয়ের ইতিহাসেও গানটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়

দেখেন একটা সময় পর্যন্ত আমাদের নিজস্বতা বলে একটা জিনিস ছিল আসলে। সিয়াটলের প্রথম দিককার সেই বছরগুলার কথাই ধরেন। সেই সময়টা এখন একটা ভালবাসার জায়গা হয়ে আছে। কী অসাধারণ সব সময়ই না কাটাইছি আমরা তখন। জাস্ট মনে করেন গিটার নিয়া সামনে ভিড় করা দর্শকের উপর শরীরটা ছেড়ে দিছি ব্যাস তাদের হাতে হাতেই চোখের পলকে পৌঁছে গেছি একেবারে ঘরের শেষ মাথায়। তারপর আবার একইভাবে ফিরে আসছি স্টেজে। কোন ক্ষতি বা কিছুর আশংকা ছিল না। এই উদযাপনটার দিকে আঙ্গুল তুলতে পারে নাই কেউ কোনদিন। কিন্তু যখনই জিনিসটা মেনস্ট্রিমে চলে আসলো ব্যাস তখনই এর আর কিছু থাকলো না। এই বিষয়টা আমারে এতো বিব্রত করছে যে এখন জিনিসটা ভাবলেই ক্লান্ত লাগে। ওইগুলা নিয়া আর ভাবিটাবি না আমি।

 

৯১ এর বসন্তের পর অর্থাৎ নেভারমাইন্ড  সব ফাটায় দেয়ার আগে আগে, এইবারই প্রথম ইউএস ট্যুরে আসলেন আপনারাতো মাঝখানে এতোদিন ট্যুর না করার কারণ কী?

মনটাকে, নিজের চিন্তাগুলাকে গোছানোর জন্যে একটু সময়ের প্রয়োজন ছিল। আসলে নেভারমাইন্ড এর তুমুল সাফল্য কিংবা জনপ্রিয়তা আমারে সেইরকম একটা ধাক্কা দেয়। ফলে ট্যুরে যাইতে হবে এই চিন্তাটা মাথাতেই আসে নাই। প্রচুর, লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছিলাম। আট দশ মিলিয়ন রেকর্ড বিক্রি হয়ে গেছিল। আমার কাছে তো সেইটা অনেক টাকা। তাই ভাবলাম একটু শুয়েবসে কাটাই আরকি। আরামআয়েশ করি।

তারপরেও এইটারে আমি কোন অযুহাত হিসাবে খাড়া করাইতে চাচ্ছি না। বিষয়টা নিয়ে এর আগেও বহুবার প্রশ্ন তোলা হইছে। আসল কারণটা ছিল আমার পেটের সমস্যাটা। এইটার কারণেই ওই সময়টায় ট্যুর করতে পারি নাই অনেকদিন। জিনিসটা অনেকদিন ভোগাইছে আমারে। কিন্তু যখন মনে করেন আপনি টানা পাঁচ বছর একটা সমস্যায় ভুগবেন তখন একটা সময় আপনের মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। কোন কিছুর সাথেই খাপ খাওয়াইতে পারবেন না। ওই সময় নিজেরে বৃষ্টিতে পুরা ভেজা মাইর খাওয়া একটা বিড়ালের মত আউলাঝাউলা লাগতো আমার।

 

সেই শারীরিক যন্ত্রণার কতটুকু নিজের লেখা গানে আনতে পারছেন?

খুবই ভয়ংকর প্রশ্ন। কারণ এইটা তো খুবই স্বাভাবিক যে কেউ যখন এইরকম একটা অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায় তখন সেইটা তার মিউজিকে একটা ছাপ ফেলে। আর জিনিসটা কিন্তু খারাপও না একেবারে বরং লাভই হয় এতে। আমি মনে করি এতে উপকারই হইছে আমার। কিন্তু যাই হোক না কেন সুস্থতার জন্যে সব কিছু বিসর্জন দিতে রাজি আমি। আমি চাইছিলাম আবার যখন ট্যুর শুরু করবো তখন কোন একটা সময় এই ইন্টারভিউটা দিবো আর এখনও পর্যন্ত এই ট্যুরটা আমার জীবনের সবচাইতে উপভোগ্য ট্যুরগুলার একটা মনে হচ্ছে। সত্যি বলতেছি।

এই কারণে না যে বড় বড় সব ভেন্যুতে শো করতেছি কিংবা অনেক মানুষের আদরসোহাগ পাচ্ছি, আসল কারণ হল পেটের পুরান সমস্যাটা আর ভোগাচ্ছে না। খাওয়াদাওয়া করতে পারতেছি ঠিকঠাক। গতকালকেই একটা বিরাট সাইজের পিতজা খাইলাম। জিনিসটা খাইতে পারছি বলে বেশ ভাল লাগতেছে। মনের জোরটা বাড়ছে। কিন্তু তারপরও একটা ব্যাপার কি জানেন আমার সবসময়ই একটা ভয় ছিল যে পেটের সমস্যাটা ঠিক হয়ে গেলে হয়তো আর আগের মতো আর ক্রিয়েটিভ থাকতে পারবো না। কে জানে?(একটু থামলেন এইখানে কোবেইন) এখনও পর্যন্ত নতুন কোন গানও লিখতে পারি নাই। এ পর্যন্ত করা প্রতিটা অ্যালবামের ক্ষেত্রেই প্রতিবার জ্যাম সেশন থেকে এক থেকে তিনটার মতো গান হাতে থাকতো আমাদের। আর কোয়ালিটিও ভাল হইতো সেগুলার। বিষয়টা খুব ভাল লাগতো আমাদের ফলে একটা ভরসা থাকতো আমাদের সবসময়। জানতাম যে গানগুলা হিট কিংবা গড়পড়তা যে কোন গানের চাইত ভাল করবে। কিন্তু এইবার যেহেতু হাতে সেরকম কিছু নাই তাই পরবর্তী রেকর্ডিংটা ইন্টারেস্টিং হবে। এইবারই প্রথম একেবারে শূন্য হাতে শুরু করতে হবে সব। জানি না কপালে কী আছে।

 

ইন ইউটেরো  থেকে শেষ মুহূর্তে আই হেট মাইসেল্ফ অ্যান্ড আই ওয়ান্ট টু ডাই  গানটা বাদ দিছিলেন আপনি গানটার সাথে বাস্তবের মিল আসলে কতটুকু?

একটা কৌতুকের মতো। এর বেশি কিছু না। গানটা শেষ মুহুর্তে তুলে নাওয়ার পেছনে এইটা একটা কারণ। আমরা জানতাম যে পাবলিক জিনিসটা বুঝবে না। সিরিয়াসলি নিবে। পুরা গানটাই স্যাটিরিকাল একটা জিনিস ছিল, নিজেদের পচাইছিলাম আমরা। গানটা শুনলে মনে হয় পগলছাগল টাইপের একটা লোক নিজেরে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। যেমন এইরকম একটা লাইন ছিল গানটায় যে, হি ওয়াজ নট স্যাটিসফাইড উইদ এনিথিং। তাছাড়া গানটার টাইটেলটাও খুব হাস্যকর মনে হইছিল। আমি তো বহুদিন এমনও ভাবছি যে ওই টাইটেলটাই আমাদের অ্যালবামের নাম হবে। কিন্তু জানতাম যে বিষয়টা অধিকাংশ পাবলিকেরই মাথায় ঢুকবে না।

 

কখনও কি ওই পর্যায়ের চাপ বা যন্ত্রণা কিংবা ধরেন ক্রোধ জন্মাইছে আপনের ভেতর যে নিজেরে মাইরা ফেলতে ইচ্ছা করছে?

ওই যে সেই পেটের ব্যথায় ভোগার পাঁচ বছর সময়টায় রোজই ভাবছি এর চাইতে নিজেরে মাইরা ফেলা ভাল। কয়েকবার তো ঘটনা ঘটাইতে ঘটাইতে ঘটাই নাই। সরি এইভাবে বলতেছি। কিন্তু এরকমও হইছে যে ট্যুর চলাকালীন সময়ে কখনও কখনও ব্যথার চোটে মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি দিতাম আমি রীতিমতো, প্রচণ্ড বমির ভা হইতো কিন্তু বাতাস ছাড়া কিছুই বের হইতো না মুখ দিয়ে কারণ আমি তো পানিও খাইতে পারতাম না ফলে পেট ফাঁকা থাকতো। এর মধ্যে আবার বিশ মিনিট টানা হয়তো পারফর্মও করা লাগতো। গান গাইতেছি তার মধ্যেই আবার কাশতেছি, কাশির সাথে রক্ত। এইভাবে কি বাঁচা যায়? মিউজিক আমার ভালবাসা কিন্তু এই গোলমাল নিয়া আর কত পারা যায়! যাই হোক পরে তো চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া শুরু করলাম।

 

স্যাটায়ার হইলেও এইরকম একটা স্নায়ুবিধ্বংসী গান নানান কারণেই অনেক পোলাপানরে আসলেই সুইসাইডাল কইরা তুলতে পারে

দেখেন আমাদের ব্যান্ডটাই তো এমন। বেসিকালি আমাদের মিউজিক একটা কন্ট্রাডিকশন তৈরি করে। আমাদের গানগুলা একইসাথে স্যাটিরিকালা আবার সিরিয়াসও।

 

ভক্তদের কাছ থেকে কী টাইপের ইমেইল পান ইদানিং?

(লম্বা একটা বিরতি) আগে প্রায় সব ইমেইলই পড়তাম, ভাবতামও। কিন্তু ইদানিং এই রেকর্ড, ভিডিও, ট্যুর এসব নিয়া ব্যস্ততার কারণে একটা মেইলও খুলে দেখা হয় না আর এজন্যে খুব খারাপও লাগে। এমনকি নিজেদের একটা ফ্যানজিন বের করার মতো শক্তিও যোগাড় করতে পারি নাই আমি। ব্যাড প্রেস জিনিসটারে সামলাইতে নিজেদের একটা ফ্যানজিন করা খুব জরুরি ছিল আমাদের জন্য। আমাদের ব্যান্ডটার বাস্তব দিকটা তুলে ধরার জন্য আরকি। কিন্তু বিষয়টা অতো সহজ না। মানতেছি যে অন্য রকস্টারদের মতো আমি নিজেও আসলে মেইলের রিপ্লায় আর দিতে পারি নাই পরে, এমনকি সমসাময়িক মিউজিকের খোঁজটাও রাখতে পারি নাই ঠিকঠাক। আসলে বলতে পারেন এতো বেশি বন্দী হয়ে থাকি যে বাইরের জগতটাকে অচেনা লাগে খুব। এর ভেতরই যখন ক্লাবটাবে যাই তখন নিজেকে খুব ভাগ্যবান বলে মনে হয়। এইতো কয়েকদিন আগেই ক্যানসাস সিটিতে থাকার সময় এক রাত অফ পাইছিলাম, কিন্তু মো.., প্যাট (স্মিয়ার) কিংবা আমি কারও মাথাতেই আসতেছিল না যে কই যাবো। ফলে সেইখানকার একটা লোকাল কলেজ রেডিও স্টেশনে ফোন দিয়ে ওদের কাছ থেকে শহরে কোথায় কী চলতেছে খোঁজ নিলাম। মজার ব্যাপার হইলো তারাও কিছু জানাইতে পারলো না। তো শেষ পর্যন্ত আমরা একটা বারে ফোন করলাম, ওইদিন আবার সিয়াটলের ট্রিপিপল  ব্যান্ডের শো চলতেছিল। সেইখানে ব্যান্ডটার জোশ তিনটা ছেলের সাথে আলাপ হইলো আমাদের। অসাধারণ একটা সময় কাটাইছিলাম সেদিন ওদের সাথে। সারারাত আড্ডা মারলাম আমরা। আমি আবার ওদেরকে আমাদের হোটেলে আসার দাওয়াত দিলাম। ওরা আসলোও। ওদের জন্য রুম সার্ভিস এর ব্যবস্থা করলাম। হয়তো মনে হইতে পারে একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে বা একটু বেশি খাতিরদারি করে ফেলছি কিন্তু আসল কথা হল সেগুলা করতে পেরে নিজের কাছেই খুব ভাল লাগছে আমার। এখনও যে আমি বন্ধু বানাইতে পারি এইটা বুঝতে পারাটা দুর্দান্ত একটা ব্যাপার ছিল আমার জন্য। আর এরকম কিছু একটা যে এখনও করতে পারি তা চিন্তাও করিনি।

বছর কয়েক আগে ডেট্রয়েট এর একটা ক্লাবে বাজাচ্ছিলাম, মোটে জনাদশেক লোক ছিল সেখানে। তো অরা যেখানে বাজাচ্ছিলাম য়ার উল্টা দিকেই একটা বার ছিল। ওইখানে আবার সেদিন আসছিলেন অ্যাক্সেল রোজ, সাথে ১০-১৫ জন বডিগার্ড, সেই জাঁকজমক ব্যাপার আরকি, লোকজন পারলে তার গায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আসল কথাটা কি জানেন? উনি যদি সেদিন একা আসতেন তাহলে এতো গ্যাঞ্জামট্যাঞ্জাম হত না। আসলে উনি চাইছিলেনই যে সবার মনোযোগটা তার দিকে যাক। এই কারণেই এতোগুলা বডিগার্ড নিয়ে ঢুকছিলেন আরকি।

 

পার্ল জ্যাম  নিয়া আপনার বর্তমান অবস্থান কী? একটা কানাঘুষা আছে যে আপনের আর এডি ভেডারের নাকি একসাথে টাইম ম্যাগাজিনের কাভার ফোটোতে থাকার কথা ছিল?

এই বিষয়টা নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমি একটা জিনিস শিখছি সেইটা হল কাউরে অপমান করে কোন লাভ হয় না। কাজটা খুবই খারাপ কারণ শুধু এই কারণেইপার্ল জ্যাম  আর নির্ভানার এতোদিনের গ্যাঞ্জাম বহুবার সুরাহার খুব কাছাকাছি এসেও শেষ পর্যন্ত হয় নাই।

 

ভেডারের সাথে আসলে সমস্যাটা কী নিয়া তা কখনই খোলাসা করা হয়নি

এরকম কোন কিছুই ছিল না আসলে কোনদিন। একটা সময় আমি তাদের গালিগালাজ করছি কারণ তাদের ব্যান্ডটা আমার পছন্দ ছিল না। দোষটা আমারই ছিল; আমার উচিৎ ছিল তাদের গালি না দিয়ে রেকর্ড কোম্পানিগুলাকে গালি দেয়া। তাদেরকে নিয়ে ব্যবসা করা হইছে- আর নিশ্চয়ই কাজটা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়নি- কিন্তু এইটা তাদের মাথায় ঢোকে নাই যে তাদেরকে গ্রুঞ্জ ব্যান্ড ঘরানার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

 

তাদের জন্যে খারাপ লাগে না আপনার? আপনাদের মতো উনাদের উপরেও তো নতুন অ্যালবাম বের করা নিয়ে একটা দীর্ঘমেয়াদী চাপ আছে

হ্যাঁ লাগে। তবে একটা বিষয়ে আমি একেবারে নিশ্চিত তা হল আমাদের মতো তারা নিজেদের চিরাচরিত স্টাইলের বাইরে গিয়া নিজেদের কিংবা নিজেদের ভক্তদের চ্যালেঞ্জ জানাইতে পারেনি। তারা একটা সেইফ রক ব্যান্ড, কোন ঝুঁকিটুকি নিতে রাজি না তারা। বলতে পারেন তারা খুব শান্তশিষ্ট একটা রক ব্যান্ড যাদেরকে সবাই পছন্দ করে আরকি। (হাসি)। হায় খোদা এই বিষয়ে তো আরও ভাল কিছু লাইন মাথায় ছিল আমার। ক্যান যে মনে পড়তেছে না?

একটা বিষয় ভাবলে খুব বিরক্ত লাগে আমার, আমরা যেখানে কত কষ্ট করে একটা পুরা অ্যালবাম বের করার মতো কয়েকটা গান বানাই এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করি

নিজেদের সেরাটা কাজটা করার সেখানে অনেক ব্যান্ডই পুরা অ্যালবামে দুয়েকটা ক্যাচি গান রেখেই নিজেদের  বিরাট হাতিঘোড়া ভাবা শুরু করে দেয়। হয়তো মনে হবে যে খুব ইগো দেখাচ্ছি কিন্তু এটাই বাস্তবতা। সত্যিটা হল ওই দুয়েকটা গান ছাড়া তাদের বাদবাকি সবই হল বস্তাপচা বুলশিট। তাতে অবশ্য কোন সমস্যাও নাই। আসলে ভুলটা আমাদেরই। আমাদের উচিৎ ছিল নেভারমাইন্ড  এর গানগুলা দিয়ে পুরা একটা অ্যালবাম না করে ১৫ বছর সেগুলা ঘুরায়েফিরায়ে চালানো। কিন্তু এইসব বালছাল কাজ আমাদের দ্বারা হবে না। সারাটা জীবন সেইসব অ্যালবামই আমার ভাল লাগছে যেগুলা একটার পর একটা ভাল গানে ভর্তি। যেমন ধরেন অ্যারোস্মিথের রকস, দ্যা সেক্স পিস্তলস এর নেভার মাইন্ড দ্যা বোলোকস…, লেড জ্যাপেলিন , এসি/ডিসির ব্যাক ইন ব্ল্যাক

(চলবে)। 

(ইন্টারভিউয়ারঃ ডেভিড ফ্রিক, প্রকাশঃ রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন, সময়কালঃ জানুয়ারি ২৭, ১৯৯৪। অনুবাদঃ তানভীর হোসেন)।